টানা নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

টানা নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

নৌকা আছে মাঝি নেই, এমনকি বইঠাও নেই। নদীর এপার থেকে ওপারে টানানো রশি টেনেই ঝুকিপূর্ণ পারাপার হতে হয় যাতায়াতকারীদের। এদিক-ওদিক হলেই নৌকাডুবে পড়তে হবে পানিতে। এভাবে সলঙ্গার তিননান্দিনা খেয়াঘাটে টানা নৌকায় নিত্যদিন করতোয়া নদী পার হতে হয়। 

তিননান্দিনা, কাঁঠালবাড়িয়া, বোয়ালিয়ার চরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষকে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটা সেতু নির্মাণের।

ভুক্তভোগীরা জানান, তিননান্দিনাসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ তিননান্দিনা খেয়াঘাট। 

তিন নান্দিনা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সারমিন, তানিয়া সুমিয়া, বিথী, রাকিব, তালহা, ইকবাল ফেরদৌসসহ অনেক শিক্ষার্থী জানায়, সারা বছর ঝুঁকি নিয়ে আমরা নৌকায় পারাপার করে থাকি, নৌকায় বেশি মানুষ ওঠার ফলে একাধিকবার নৌকা ডুবির ঘটনাও এখানে ঘটেছে। তাই এখানে একটি সেতুর খুবই দরকার। 

তিননান্দিনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক সরকার জানান, তিননান্দিনা গ্রামে একটি হাইস্কুল, একটি প্রাইমারি স্কুল, মাদ্রাসা হাসপাতালসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।নদীর পশ্চিমে নলছিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও নদীর উভয় পাড়ের ছাত্র ছাত্রী ও যাতায়াতকারীদের একমাত্র পথ তিননান্দিনা খেয়া ঘাট। এলাকাবাসীসহ আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

তিননান্দিনা গ্রামের সাবেক প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম খোকা জানান, নির্বাচনের পূর্বে অনেক এমপি উক্ত স্থানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পরে আর তাদেরকে দেখা যায় নি। চারদিকে নদী বেষ্টিত গ্রামের নাম তিননান্দিনা গ্রামসহ পাশের গ্রামগুলোর উপজেলা বা জেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তা ব্যাক্তিদের কাছে এখানে সেতু নির্মাণের দাবি করছি।

নলকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জাব্বার সরকার জানান, তিননান্দিনা ঘাটে সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি। বিষয়টি আমি উপজেলা সমন্বয় মিটিংয়ে তুলে ধরেছি এবং এলজিইডি রায়গঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন অফিসে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রায়গঞ্জ, তাড়াশ-সলঙ্গার মাননীয় জাতীয় সংবাদ সদস্যের মাধ্যমে স্থানে সেতু নির্মাণের দাবি করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


নাবা/ডেস্ক/ওমর