ছাদের কেটে ফেলা গাছ রোপণ করে দিলো বৃক্ষপেমীরা

ছাদের কেটে ফেলা গাছ রোপণ করে দিলো বৃক্ষপেমীরা

গতকাল মঙ্গলবার ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির ছাদ বাগানের গাছগুলোকে নির্মমভাবে একের পর এক কেটে সাফ করে ফেলছেন এক নারী। সে সময় গাছগুলোর মালিক অপর নারী চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, এই ছাদে আমাদেরও অংশ আছে, গাছ কারো ক্ষতি করে না, গাছেরও জীবন আছে, প্লিজ গাছগুলো কাটবেন না, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন না, তওবা করলেও এই অন্যায় আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। কিন্তু লাকি বেগম নামের ওই নারীর হৃদয় গলেনি। এসময় লাকির পক্ষে ছাদে ছিলেন তার ছেলেসহ কিছু ভাড়াটে মাস্তান। গাছের মালিক ওই নারীই ভিডিওটি করছিলেন।

ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা মাত্র মূহুর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। টবের গাছ কাটা সেই নারীর নাম লাকি বেগম। আর ছাদ বাগান করেছেন সুমাইয়া হাবিব। তারা দুজনেই সাভারের সিআরপি রোডের ওই ভবনের বাসিন্দা।

এদিকে গাছ হারানো সুমাইয়ার পাশে দাঁড়ালেন বৃক্ষপেমীরা। তার জন্য বিভিন্ন প্রকার গাছ নিয়ে বাসার টবে লাগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অন্য ফ্লাট মালিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তারা। এসময় ফ্লাট মালিকদের সঙ্গে ছাঁদ বাগান করার জন্য উৎসাহিত করেন।

গাছ নিয়ে সুমাইয়ার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন গ্রীণ সেভার্সের প্রতিষ্ঠাতা এবং গাছের ডাক্তার খ্যাত আহসান রনি। গাছ নিয়ে সুমাইয়ার পাশে দাঁড়িয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানানোর বিষয়ে আহসান রনি নাগরিক বার্তাকে বলেন, আজ আমরা সাভার গিয়েছিলাম। সুমাইয়ার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমরা প্রায় ৪০ জন মিলে গিয়ে তাকে গাছ উপহার দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে ঢাকা থেকে অনেকেই গেছেন এবং স্থানীয় আরো অনেকে যুক্ত হন।

তিনি বলেন, গাছ কাটার বিরুদ্ধে সবাই মিলে একটি প্রতিবাদ করেছে, এটি একটি পজিটিভ সাইন। ভিডিওতে যা আমরা দেখেছি তা আসলেই কখনো কাম্য নয়। এর মাধ্যমেই প্রামাণ হয়  শহরের গাছপালা কতটা অনিরাপদ। আমরা এই বিষয়টা নিয়ে আগে থেকেই শঙ্কিত ছিলাম। গাছ রক্ষা এবং এ ধরনের কাজগুলো যাতে আর না ঘটে সেজন্যই মূলত আমরা গিয়েছিলাম।


দেশের প্রথম গাছের হাসপাতালের এ প্রতিষ্ঠাতা আরো বলেন, আমরা যে গাছগুলো নিয়েছিলাম এই গাছগুলোও এক-একটি প্রতিবাদের অংশ এবং গাছ হারানো সুমাইয়ার কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করেছি। কারণ একটি গাছ অনেক যত্নে বড় করতে হয়। আর তা যদি চোখের সামনেই একজন কেটে ফেলে, সেই কষ্ট অনেক বড়। এখন সে নতুন গাছ পেয়ে হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাবেন। যতগুলো গাছ কাটা হয়েছে এবং যে যে জাতের গাছ কাটা হয়েছে সেগুলো আমরা তাকে দিয়েছি।

দীর্ঘদিন ধরে ছাঁদ বাগান নিয়ে কাজ করা এই বৃক্ষপ্রেমী আরো বলেন, আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। বিষয়টি স্পর্শকাতর। একটি বাড়ির সবাই বাগান করে না। কিন্তু গাছগুলো সবাইকেই অক্সিজেন দেয়। তাদের (সুমাইয়ার) ফ্লাট মালিক সমিতি থেকে এক মাসের মধ্যে গাছগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু ছাদে যে গাছগুলো থাকে সেগুলো তো আর রুমে বা বারান্দায় রাখা যায় না। এগুলো তো প্রচন্ড রোদে বাঁচে। তাই গাছগুলো সড়িয়ে নেওয়ার কোন উপায় ছিলো না। তাই সে গাছগুলোকে ছাঁদে রেখেছিলেন তাও আবার এক কোনায়।

অন্য ফ্লাট মালিকদের যুক্তি হচ্ছে একজনের গাছ কেনো ছাদে থাকবে। যদি সবার গাছ হতো তাহলে থাকতো। এছাড়া তারা হাস্যকর একটি যুক্তি দেখিয়েছেন, গাছ নাকি ছাদের পরিবেশ নষ্ট করে। তখন আমি তাদের প্রশ্ন করেছিলাম, আপনারা পরিবেশ বলতে কি বুঝেন? তারা কোনো উত্তর দিতে পারেনি।

তবে এই ঘটনার পরে এখন তারা কথা দিয়েছে গাছগুলো যত্ন করে রাখবে। আমরা গাছগুলো তাদের হাতে তুলে দিয়েছি। আমরা তাদেরকে অনুরোধ করেছি, আপনারা গাড়ি রাখার জন্য যেমন গ্যারেজ নির্দিষ্ট করে দেন ঠিক তেমনি ছাদে বাগান করার জন্যও যায়গা নির্ধারণ করে দিবেন। এছাড়াও ছাদে গাছের যত্ন করার জন্য মালি রাখার বিষয়েও আমরা কথা বলেছি। আশা করছি এবার ওই ভবনে আমরা একটি ছাদ বাগান দেখতে পাবো।

উল্লেখ্য, এরই মধ্যেই পরিবেশবাদীদের করা মামলায় খালেদা আক্তার লাকি (৪৫) নামের ওই নারীকে আটক করেছে সাভার থানার পুলিশ।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

রিলেটেড নিউজঃ