কিভাবে নিজেকে আজীবন সুখী রাখবেন?

কিভাবে নিজেকে আজীবন সুখী রাখবেন?

দুঃখ নিয়ে অট্টালিকায় বাস করে লাভ নেই। সুখ নিয়ে কুঁড়ে ঘরে থাকাটা কত যে আনন্দের তা উপলব্ধি করার সুযোগ হারিয়েছেন বিত্তশালীরা। বর্তমানে সুখ বিলুপ্তির পথে। যারা সুখ নামের পরশ পাথরের সন্ধান করছেন তাদের জন্য কয়েকটি পরামর্শ।

১) অন্যের কাজে নাক গলাবেন না :

আমরা জীবনের বেশিরভাগ সমস্যাই সৃষ্টি করি অন্যের কাজে অহেতুক হস্তক্ষেপ করে। অন্যের চলার পথকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবেন না। কেননা, আল্লাহ প্রত্যেকটি মানুষকে ভিন্নভাবে, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।

২) ক্ষমা করে মনে রাখবেন না :

ক্ষমা মহৎ গুণ কিন্তু সেটা মহৎ থাকে না যদি আপনি সেটা সবার মাঝে বলে বেড়ান। এমন কাজে নষ্ট করার মতো যথেষ্ট সময় জীবনে নেই। ক্ষমা করে, ভুলে গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে জান। মনে রাখবেন, ভালোবাসাটা দেওয়ার পড় ভুলে যেতে পারলেন কিনা তার মধ্যেই প্রস্ফুটিত হয়।

৩) স্বীকৃতির জন্য কামনা করবেন না:

এই পৃথিবী স্বার্থপর মানুষের পরিপূর্ণ। আজ আপনার প্রশংসা করে আপনার ক্ষমতা আছে বলে, কাল যখন ক্ষমতা থাকবে না তখন ছুড়ে ফেলতেও দ্বিধা করবে না। আপনার সকল অর্জন-ত্যাগ ভুলে যাবে। কিন্তু শুধু স্বীকৃতির জন্য আপনার ভিতরের মানুষটাকে ধ্বংস করবেন কেন? আপনার কাজ আপনি যথাযথ ভাবেই করে যান।

৪) হিংসা কে মাটি চাপা দিন:

কারো অর্জনে কখনো হিংসা করবেন না। হিংসা মানুষের অর্জনগুলো মাটি চাপা দিয়ে দেয়। এটা আমাদের মানসিক প্রশান্তি নষ্টেরও বড় ধরণের একটা কারণ।

৫) আগে নিজেকে বদলান:

আপনি যদি আপনার চারপাশের পরিবেশকে পরিবর্তন করে দিতে চান, তবে আগে নিজেকে বদলান। আপনি যদি হঠাৎ করে আপনার চারপাশের পরিবেশকে পরিবর্তন করে দিতে চান, তাহলে সেটা বেশ কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাড়াতে পারে এবং বেশিরভাগ সময়-ই আপনি এতে বিফল হবেন। তাই চারপাশের পরিবেশের সাথে আগে নিজেকে মানিয়ে নিন। তারপর সবাইকে নিয়েই পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যান।

৬) যা থেকে পরিত্রাণ পাবেন না, তা সহ্য করে নিন:

প্রতিদিন আমরা এমন সব সমস্যার সম্মুখীন হই যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। এ সমস্যাগুলো নিয়ে অহেতুক ভেবে আমরা কোন সমাধানে পৌঁছাতে পারি না, কিন্তু মাঝে দিয়ে অনেক গুলো সময় নষ্ট হয়। আমাদের এ ছোট ছোট সমস্যাগুলোকে নিজেদের মানসিক প্রশান্তির জন্যই সহ্য করে নিতে হবে।

৭) সাধ্যাতীত কাজ এড়িয়ে চলুন:

আমরা অনেকেই আমাদের ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় সাধ্যের বাহিরেও কাজের দায়িত্ব নিয়ে থাকি। অনেক সময় আত্মমর্যাদা থেকে অহেতুক কাজের ভার বাড়িয়ে নেই।

৮) মহান আল্লাহকে স্মরণ করুন:

সব সময় মহান মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে স্মরণ রাখুন। তাঁর অনুগ্রহ ও সাহায্য চান। এটা আপনার কাজের গতি বাড়িয়ে দিবে এবং কম সময়ে বেশি কাজ করতে সহায়তা করবে। মহান আল্লাহর সহায়তা পাচ্ছেন, এমন ভেবে কাজ করলে মনের সতেজতা অনেক গুন বৃদ্ধি পায়।

৯) মনকে শূন্য রাখবেন না:

কথায় আছে, ‘অলস মস্তিষ্ক শতানের কারখানা’। তাই মনকে কখনো ফাঁকা রাখবেন না। যখনি সুযোগ পাবেন নিজেকে কোন না কোন কাজে ব্যস্ত রাখবেন।

১০) অতীত নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা ত্যাগ করুন:

অতীতের অসাফল্য আর তিক্ত স্মৃতিকে ভুলে সামনে এগিয়ে যান। অর্থাৎ অতীতের জয়-পরাজয় যাই থাকুক না কেন, তা স্মরণ করে পিছনে পড়ে না থেকে তা হতে শিক্ষা নিয়ে নয়তো অনুপ্রেরণা নিয়ে সামনে আগাতে পারেন। কিন্তু অতীত আঁকড়ে ধরে থাকলে কখনোই সামনে এগুবার পথ টুকুও খুঁজে পাবেন না।


নাবা/ডেস্ক/ওমর