ভারতের বিহারে মহামারি আকারে ডেঙ্গু!

ভারতের বিহারে মহামারি আকারে ডেঙ্গু!
ভারতের বিহার রাজ্যে ক্রমেই মহামারির আকার নিচ্ছে ডেঙ্গু। ফলে দেশটির অন্য রাজ্যগুলোর বাসিন্দারাও এখন ডেঙ্গুর ভয়ে বিহারে যাচ্ছে না।

বিহারের রাজধানী পাটনাতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। গোটা বিহারে প্রায় ১ হাজার ৯২৩ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪১০ জনই পাটনার বাসিন্দা। প্রত্যেকের শরীরেই ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া গেছে।

পাটনা ছাড়া বিহারের করালবাগ, গারদানি বাগ, ডাকবাংলো ও এসকে পুরিতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ এইসব এলাকাগুলিতে চলতি মরসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছিলো। বৃষ্টির জমা পানি নেমে যাওয়ার পরই এখানে ডেঙ্গুর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। তবে শুধু ডেঙ্গু নয়, ডেঙ্গুর সঙ্গে চিকনগুনিয়াতেও আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এক্ষেত্রেও বিহারের রাজধানী শহর পাটনা ওই রাজ্যের অন্য জায়গাগুলির তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। গোটা রাজ্য থেকে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু রোগীর পাশাপাশি প্রায় ১৫০ জন চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর খবর মিলেছে। তার মধ্যে ১৪০ জনই পাটনার বাসিন্দা।

বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে রয়েছে। সেখানেই বাড়ছে ডেঙ্গু মশা। যার ফল ভুগতে হচ্ছে। এর জন্য অনেকে পয়নিষ্কাষণ ব্যবস্থাকেও দায়ী করেছেন।

গত সোমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার ডেঙ্গু নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। পাটনার বন্যা পরিস্থিতি ও ডেঙ্গু নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে এক মাসের মধ্যে ওই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একাধিক সরকারি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন তিনি। অনেকের বেতনও কেটে নেওয়া হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে কয়েকজনকে।

গত মঙ্গলবার পাটনা মেডিকেল কলেজে ডেঙ্গু রোগীদের দেখতে গিয়েছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনীকুমার চৌবে। এসময় তার গায়ে কালি ছিটিয়ে দেয় দুই যুবক। এ ঘটনায় হতবাক হয়ে যান চৌবে এবং তার সঙ্গীরা। 

জানা যায়, বিহারে বন্যার সময় ত্রাণ বণ্টনে কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলার প্রতিবাদে তার গায়ে কালি ছিটিয়েছেন ওই দুই যুবক।

নাবা/ডেস্ক/কেএইচ/

রিলেটেড নিউজঃ