প্রবাসি বান্ধব শেখ হাসিনা সরকার

প্রবাসি বান্ধব শেখ হাসিনা সরকার

‘দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’- বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক দশককে বলা হয় বাংলাদেশের ‘উন্নয়নের দশক’। আর এ উন্নয়নের রূপকার হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। এই দেশে এর পূর্বে এমন উন্নয়ন কেউ দেখেনি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, যোগাযোগ, তথ্য প্রযুক্তি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, অর্থনীতিসহ এমন কোনো খাত বাকি নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। দেশের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে চলমান রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ।


অন্যসব সেক্টরের মতো অভিবাসন সেক্টরেও অগ্রগতি হয়েছে লক্ষ্যণীয়। বাংলাদেশের সর্বাধিক রেমিটেন্স আসে বৈদেশিক কর্মসংস্থান থেকে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে গতিশীল থাকে আমাদের অর্থনীতির চাকা। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকে লক্ষ লক্ষ পরিবার। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়নে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের গুরুত্ব অনেক। দূরদর্শী নেত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই বুঝতে পেরেছেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব না দিলে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা তাই দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কাজ শুরু করেন। ২০০৭-০৮ সালে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ছিল ৭.৯ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যা এসে দাঁড়িয়েছে ১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা সরকারের দশবছরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান থেকে আয় দ্বিগুণ হয়েছে।

আরো পড়ুন: শেখ হাসিনার কুটনৈতিক সাফল্য

আরো পড়ুন: এ যাবত কালের সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা
 

দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধিন আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবছর শ্রমবাজার সম্প্রসারণ করছে। বিএনপির ক্ষমতাকালে বিশ্বের মাত্র ৯৭টি দেশে বাংলাদেশের কর্মী পাঠানো হতো। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে পর্যায়ক্রমিকভাবে ১৬৮ দেশে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিদেশে প্রায় ৬০ লাখ কর্মী পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ২০১৭ সালে রেকর্ড সংখ্যক দশ লক্ষাধিক কর্মী বিদেশ গমন করেছে। বর্তমানে বিশ্বে ১৩ বিলিয়ন বাংলাদেশি কর্মরত আছে। এ থেকে বুঝা যায় যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার কতটা বিস্তৃত হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশবাহিনী দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।


শেখ হাসিনা সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও এর সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের প্রাধান্য দিয়েছেন। প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের উন্নয়নে তিনি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শ্রমিকদের দেখভালের জন্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ২৯টি শ্রমব্যুরো কাজ করছে। বিদেশ গমণেচ্ছু শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। গত এক দশকে প্রায় ২ মিলিয়ন কর্মী এসব কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে কর্মরত আছেন। প্রশিক্ষণ সেবার তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রথম পর্যায়ে ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিদেশি ভাষা শিক্ষারও কোর্স চালু রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০টি উপজেলায় ৫০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামে নির্মিত হচ্ছে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি। এখান থেকে বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারবে।

শেখ হাসিনা সরকার নারীবান্ধব সরকার। তাঁর প্রচেষ্টায় বিদেশে নারীকর্মীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৯ সালে বিদেশে ২২ হাজার ২২৪ জন নারী কর্মী গমন করেছিল। আর ২০১৮ সালে বিদেশে নারী কর্মী গিয়েছে ১ লক্ষ ১ হাজার ৬৯৫ জন। গত ১০ বছরে প্রায় ৭ লক্ষ নারী বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। সরকার সৌদি আরবে সম্পূর্ণ বিনা খরচে নারী কর্মী গমনের ব্যবস্থা করেছে। ২০০৮ সাল পর্যন্ত সৌদিআরবে বাংলাদেশি নারী কর্মী ছিল প্রায় ৩০ হাজার। বর্তমানে যা বেড়েছে বহুগুণ। গত ১০ বছরে সৌদি আরবে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার নারী কর্মী গমন করেছে। প্রবাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে নারীদের জন্য সেফহোম চালু করা হয়েছে।


প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার নিরলস কাজ করছে। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকল্পে সরকার বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে। এগুলো হলো: বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি ২০১৬, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৭, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন ২০১৮। প্রবাসীদের সার্বিক বিষয় দেখাশোনার জন্য রয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক খোলা হয়েছে। প্রবাস বন্ধু কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানের জন্য ২০১২ সাল থেকে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে সরকার। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৬ জনকে ১০ কোটি ১৮ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি  প্রদান করা হয়েছে। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর দেহ দেশে আনতে শ্রম কল্যাণ উইং সহযোগিতা করছে। কোনো কর্মীর মৃতদেহ নিয়োগকর্তার খরচে দেশে আনা সম্ভব না হলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে মৃতদেহ দেশে আনা হয়। অন্যদিকে বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তরের সময় মৃতদেহ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। পরে বোর্ডের মাধ্যমে মৃত কর্মীর পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।


প্রবাসীদের হয়রানিরোধে শেখ হাসিনা সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মীদের বিদেশ গমনকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে এনেছে। সর্বত্র সচেতনতামূলক প্রচারণা ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দালালদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ফলে নির্বিঘ্নে বিদেশে যেতে পারছেন কর্মীরা। এসব কিছু সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও আন্তরিকতার কারণে।


সরকার নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার যাচাই করে দেখছে। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র প্রধানমন্ত্রীর তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ কাজে তাঁকে সহযোগিতা করছেন। বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালুর জন্যে কুটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ফলে আশা করা যায়, বৈদেশিক কর্মসংস্থানে শীঘ্রই বাংলাদেশ আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। 

সবশেষে বলতে চাই, সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির কারণেই বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রপ্রধান। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কাজ এখন সুসম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতো এতো আন্তরিকভাবে প্রবাসীদের জন্য অন্য কোনো সরকার কাজ করেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার প্রবাসি বান্ধব সরকার, আমি পরম করুনাময়ের কাছে প্রার্থনা করি আপনি দীর্ঘজীবী ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হউন বাংলাদেশকে আরো অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যান।


জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।



ড. মোহাম্মদ হাসান খান

সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা।