শ্রীলঙ্কার আজ স্বপ্ন পূরণের দিন

ক্রিকেট বিশ্বকাপে এশিয়ার তৃতীয় দল হিসেবে ১৭ মার্চ ১৯৯৬ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে শ্রীলঙ্কা।

এই দিনটি বিশ্ব ক্রিকেটে বিশেষ একটি দিন হলেও শ্রীলঙ্কার জন্য দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তার আগে ভারত ও পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হলেও শ্রীলঙ্কা ছিল শিরোপা শূন্য। ব্যবসায়ীক অংশীদারীত্বের কারণে এ প্রতিযোগিতাটি উইলস বিশ্বকাপ নামে পরিচিতি পায়।

পাকিস্তানের লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন লঙ্কান অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা।

অস্ট্রেলিয়া দলে মার্ক টেইল, মার্ক ওয়াহ, স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিং, শেন ওয়ার্ন, ইয়ান হিলি, গ্লেন ম্যাকগ্রা যেমন ছিলেন তেমনি লঙ্কান দলে ছিলেন সানাৎ জয়াসুরিয়া, কালুভিতারানা, গুরুসিনহা, ডি সিলভা, রানাতুঙ্গা, রোশন মাহানামা, কুমার ধর্মসেনা, চামিন্দা ভাস, মুত্তিয়া মুরালিধরণরা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৩৬ রানে মার্ক ওয়াহকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর মার্ক টেইলর-পন্টিং মিলে শতরানের জুটি গড়েন। টেইলরকে (৭৪) বিদায় করে জুটি ভাঙেন ডি সিলভা। এর কিছুক্ষণ পর পন্টিংও (৪৫) বিদায় নেন। শেষ দিকে স্টুয়ার্ট ল, মাইকেল বেভানদের কল্যাণে দলীয় সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৪১ রানে গিয়ে দাঁড়ায়।

লঙ্কানদের হয়ে ডি সিলভা ৩টি, ভাস, মুরালি, ধর্মসেনা, জয়াসুরিয়া প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট লাভ করেন।

২৪২ রানের লক্ষে খেলতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় শ্রীলঙ্কা। দলীয় ১২ রানে জয়াসুরিয়া ও ২৩ রানে কালুভিতারানা আউট হয়ে ফিরলে বিপদেই পড়ে লঙ্কানরা। তৃতীয় উইকেটে গুরুসিনহা-ডি সিলভা ১২৫ রানের জুটি গড়লে বিপদমুক্ত হয় লঙ্কানরা।

দলীয় ১৪৮ রানে তৃতীয় উইকেট হিসেবে গুরুসিনহা (৬৫) ফিরলেও ফাইনালে নিজের সেঞ্চুরি তুলে নেন ডি সিলভা।

চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক রানাতুঙ্গাকে নিয়ে ম্যাচ জয়ের বাকি কাজটুকু সারেন ডি সিলভা। চতুর্থ উইকেটে এ দুজন ৯৭ রানের জুটি গড়ে দলকে প্রথম শিরোপার স্বাদ পাইয়ে দেন।

১২৪ বলে ১৩টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ১০৭ রান ও বোলিংয়ে ৪২ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে অরবিন্দ ডি সিলভা প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। আর পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ওপেনার সানাৎ জয়াসুরিয়া প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

তবে এ বিশ্বকাপে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচটি। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে লঙ্কানদের ২৫১ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে লঙ্কান বোলারদের তোপে পড়ে ১২০ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিক ভারত।

এরপর ভারতীয় দর্শকরা মাঠে ফল ও প্লাস্টিকের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকলে খেলা সাময়িক বন্ধ থাকে। খেলায়াড়রা পুনরায় মাঠে নামলে আবারো দর্শকরা মাঠে ফল ও প্লাস্টিকের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে।

তাই বাধ্য হয়ে ম্যাচ রেফারি ক্লাইভ লয়েড শ্রীলঙ্কাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
নাবা/সেন্ট্রাল ডেস্ক/কেএইচ/