শিশুদের মানসিক বিকাশে এগিয়ে আসা প্রয়োজন

ছবি: নাগরিক বার্তা.কম

মাসুম হয়ে জন্ম নেয় আজকের শিশুটিই এক সময় পৃথিবীর যোগ্য নাগরিক হয়ে উঠবে। দেশ ছাড়িয়ে নেতৃত্বে দিবে বিশ্বের। এমন উদাহরণ বহু রয়েছে। শিশু জন্মের পরে দেখতে শুরু করে পরিবারের লোকদেরকে। তার চিন্তা চেতনা, আনন্দ সব কিছুই থাকে পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। খেলা-ধুলার প্রথম পর্বটি দোলনা থেকে শুরু ঘরের মধ্যে। তাকে যা শেখানো হয় কাদামটির মত তাই শিখে। এসব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু একটি শিশু বয়সের সাথে বেড়ে উঠার জন্য তার প্রতিটি ধাপে পিতা-মাতাকে অনেক যত্ন নেয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সঙ্গত কারণে অনেক পিতা-মাতার পক্ষে তা করা সম্ভব হয় না। তবে প্রাকৃতিক নিয়মগুলোর বাইরে গিয়ে সুফল পাওয়াও অনেক কঠিন।

আমাদের অবহেলার কারণে এখন শিশুগুলো কার্টুনের ভক্ত আবীর স্কুল থেকে ফিরেই টিভির রিমোট নিয়ে বসে পড়ে। টম অ্যান্ড জেরি, মিকি মাউস, ডিজনিসহ তার পছন্দের তালিকা অনেক দীর্ঘ। কৌতূহলবশত একদিন ভয়ের সিনেমা দেখে তো অবস্থা খারাপ। ভয়ে সারা রাত ঘুমাতে পারল না। বাথরুমে যেতে হলেও মাকে দরকার। সারাক্ষণ যেন সিনেমার অ্যানাকোন্ডা মাথার মধ্যে ঘুরছে।

কোমলমতি শিশুরা অনেক সময় গল্প শুনে বা ছবি দেখে ভয় পায়, আর এই ভয় শিশুর মনের গভীরে ছাপ ফেলে। ফলে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ হয় বাধাগ্রস্থ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের কোনো কাজ করানোর জন্য ভয় দেখালে তা তার মনে গেঁথে যায়। এর ফলে ওই শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং আত্মবিশ্বাস কমে যায়। এতে শিশুর সৃজনশীলতার বিকাশ ব্যাহত হয়। তাই শিশুদের কোনোভাবেই ভয় দেখানো উচিত নয়।

আবার পারিবারিক কলহের চাপে অনেক শিশুর স্বাভাবিক জীবনই অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় শিশুদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেসব শিশু মা-বাবার মনোমালিন্য দেখতে দেখতে বড় হয়, তারা হতাশ, অসামাজিক ও সহিংস হয়ে ওঠে। নানা অনিশ্চয়তায় ভুগতে থাকে। তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। ফলে মনঃসংযোগের ঘাটতিও দেখা দেয়। মানসিক রোগ ও ব্যক্তিত্বের অস্বাভাবিকতা ঘটতে পারে।

শিশুদেরকে পৃথিবীর সাথে পরিচয় করে দিতে হবে। এজন্য তাদেরকে বয়সের সাথে সাথে আশপাশের এলাকা কিংবা প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখাতে হবে। প্রয়োজনে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে। কষ্টসাধ্য হলেও মা-বাবাকেই এক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে হবে।

ছবি: নাগরিক বার্তা.কম

স্বাধীনতার পরে গত সাড়ে ৪ দশকে আমাদের দেশ এখন অনেক উন্নত। বর্তমান সরকার গ্রামেও শহরের সুবিধা দিবে বলে অঙ্গীকার করেছেন। গ্রামের মানুষের জীবন যাত্রার মান অনেক বেড়েছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য গ্রাম থেকে অনেক পিতা-মাতাই সন্তানদেরকে নিয়ে শহরে পাড়ি জমাচ্ছেন। আবার প্রবাসীদের পরিবারগুলো অধিকাংশ শহরে থাকে। নিজেদের বাড়ী না থাকার কারণে থাকতে হয় বাড়া বাড়ীতে। ছোট কয়েক কক্ষের মধ্যে এসে আরেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়ে শিশুরা। এ কারণে গ্রামে থাকলে একটি শিশু যেমন ছুটাছুটি করতো, সেটিও আর হয়ে উঠে না। আর শহর কেন্দ্রিক বিদ্যালয়গুলোতেও নেই খেলার মাঠ। মানসিক বিকাশের জন্য শিশুদের অন্যতম হচ্ছে খেলা-ধুলা। সেটি সম্পূর্ণরূপে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

করণীয়: শিশুর পরিপূর্ণ মানসিক বিকাশের জন্য মা-বাবাকেই নিতে হবে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ। মা-বাবা ছাড়া শিশুর চারপাশের পরিচিত মানুষরাই তার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে মা-বাবার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রধান কারণ মা-বাবা সন্তানের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটান, তাদের নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন, সর্বদা তাদের মঙ্গল কামনা করেন এবং অন্যদের চেয়ে ভালোভাবে তাদের বুঝতে পারেন। তাই সন্তানরাও মা-বাবার ওপর ভরসা ও নির্ভর করে। শিশুরা অনেক সময় তাদের বন্ধুবান্ধব ও ভাই-বোনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখে। তাই শিশুদের মানসিক বিকাশে পরিবার, বিদ্যালয় ও সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন।

এমএমএ/