রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত ৭

রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ৭ জন নিহত হয়েছেন। তারা সবাই নির্বাচনী কর্মকর্তা বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার।

তিনি জানান, ভোট গ্রহণ শেষে তারা সবাই সাজেকের কংলাক থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে বাঘাইছড়ি ফিরছিলেন। পথে নয়মাইল এলাকায় তাদের গাড়ি আটকে ব্রাশফায়ার করে সন্ত্রাসীরা। এসময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৫জন। পরে গুলিবিদ্ধ আরো একজন হাসপাতালে মারা যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে  আনা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ৫ জন হলেন, উপজেলার কিশলয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পোলিং অফিসার আমির হোসেন এবং আনসার ও ভিডিপির সদস্য আলামিন, মিহির কান্তি দত্ত, মন্টু  চাকমা, জাহানারা বেগম ও বিলকিস।

পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে ব্যালটবাক্স নিয়ে ফেরার পথে উপজেলার নয় মাইল এলাকায় দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন আনসার সদস্য ও একজন পোলিং অফিসার নিহত হন। আহত হন আরো ১০ জন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। সেখানে মারা যান আরো একজন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদিম সারওয়ার।

তিনি জানান, উপজেলার কংলাক, মাচালং ও বাঘাইহাটে উপজেলা পরিষদে ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় একসঙ্গে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা নয় মাইল এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাঁদের ওপর ব্রাশফায়ার করে।

এর আগে রাতে ভোট গ্রহণ ও দিনে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হতে না দেওয়ার অভিযোগ এনে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) চেয়ারম্যান প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা ও তিন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। আজ সোমবার সকাল ৮টায় বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরুর এক ঘণ্টা পরেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তাঁরা।

নাবা/ডেস্ক/নয়ন