মৃত্যুকেই মেনে নিতে হলো শিক্ষিকা সাগরিকার

চৌগাছা (যশোর) :  যশোরের চৌগাছার খড়িঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাগরিকা খাতুনের শেষ রক্ষা হলো না ।
মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে সাগরিকা মৃত্যুবরণ করেন।
মেধাবী শিক্ষিকা সাগরিকা লেখাপড়া শেষ করে ২০১৭ সালের শেষ দিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক পদে যোগদেন অত্যন্ত দরিদ্র ও মেধাবী সাগরিকা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষি দিনমজুর নাজিম উদ্দিন ও মা রাশিদা বেগমের একমাত্র মেয়ে ।
২০১৮ সালের প্রথম দিকে সগরিকার শরীরে ধরা পড়ে মরণব্যাধী ক্যান্সার। গোটা পরিবারে নেমে আসে এক ধরনের স্তব্ধতা। সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে পিতা সব ধরনের চেষ্টা করেন। সে সময় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার মাধ্যমে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। সাড়া দেন সমাজের বিত্তবানরা। এগিয়ে আসেন তার সহকর্মী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ। অসুুুুস্থ সাগরিকাকে নেয়া হয় ভারতের ভ্যালোরের খৃষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) তে। সেখান থেকে তাকে ফেরৎ দেয়া হয়। সর্বশেষ রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধিন ছিল সে। সম্প্রতি তাকে সেখান থেকেও ফেরৎ দেয়া হয়। অবশেষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। সাগরিকার মৃত্যুতে তার পরিবার, গ্রামবাসী ও উপজেলার শিক্ষক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাগরিকার চাচা চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের প্রভাষক অমেদুল ইসলাম জানান, সাগরিকা অসুস্থ্য বোধ করলে তাকে প্রথমে যশোরে চিকিৎসা করা হয়, এরপর নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তার পাকস্থলী অপারেশন করেন চিকিৎসকরা। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ভারতে নেয়ার পরামর্শ দেন। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের ২১ তারিখে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাগরিকাকে নিয়ে যাওয়া হয় ভ্যালোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি)তে। সেখানে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে চিকিৎসকরা তাকে দেশে নিতে পরামর্শ দেন। সেখান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় তাকে। সর্বশেষ রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। কয়েকদিন আগে তাকে চিকিৎসকরা বাড়িতে নেয়ার পরামর্শ দেন। বাড়িতে আনার পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় তার মৃত্যু হয়। তিনি জানান বাদ আছর নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ।
নাজিম উদ্দিনের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে টিপু সুলতান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। সাগরিকা হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে মাষ্টার্স শেষ করে চাকুরীতে যোগদান করেন। দিনমজুরের কাজ করে পিতা দুই সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তোলার চেষ্টায় প্রায় সফল। যখন পরিবারে সুখের বাতাস বইতে শুরু করে ঠিক সেই সময়েই নেমে আসে এই অন্ধকার-অমানিশা।
নাবা/এমএমএ/