বহু মানুষের প্রান রক্ষা করল নিউ জিল্যান্ডের এক আফগান শরণার্থী

নাগরিক বার্তাঃ নিউ জিল্যান্ডে সংঘটিত শুক্রবারের হামলা থেকে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছেন আব্দুল আজিজ নামে এক আফগান শরণার্থী। হামলার দিনে চার সন্তান নিয়ে লিনউড মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন তিনি। আকস্মিক গুলির শব্দকে প্রথমে তার আতশবাজি বলে মনে হয়েছিল।

তবে সন্দেহের হতেই কাছে পাওয়া এক ক্রেডিট কার্ড প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রকে হাতে তুলে নিয়ে মসজিদের বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি।লিনউড মসজিদে হামলা চলমান থাকার এক পর্যায়ে ওই যন্ত্রকে তিনি হাতিয়ার বানিয়ে তা ছুঁড়ে মেরেছিলেন সন্দেহভাজন হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টের দিকে। পরে একটি গুলিহীন বন্দুক নিয়ে তাকে তাড়া করেছিলেন আজিজ। তার দাবি, পালিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারী ট্যারন্টের মুখে ছিল ভীতির স্পষ্ট ছাপ।

এএফপি কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো জানান ‘এরকম সময়ে চিন্তা করার সুযোগ থাকে না। যা মাথায় আসে করে ফেলতে হয়।’ সাহসী ভূমিকার জন্য আব্দুল আজিজ কে স্থানীয়রা ‘বীর’ হিসেবে সম্মানিত করেছেন।
আজিজের ভাষ্য থেকে জানা যায়, বাইরে বেরিয়েই যখন একজনকে গুলি ছুড়তে দেখেন আব্দুল আজিজ, তখন এক মুহূর্তের জন্য তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না, ওই ব্যক্তি সন্ত্রাসী নাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

আজিজের কাছে তাকে দেখতে ‘সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মতো’ মনে হয়। তবে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ব্রেটন ট্যারান্টের ঘৃণাবাদী বক্তব্য শুনেই তাকে ‘খারাপ মানুষ’ হিসেবে শনাক্ত করে আজিজ। ‘প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি মানুষটা ভালো নাকি খারাপ। তবে যখন তার মুখ থেকে ঘৃণাবাদী বক্তব্য বের হয়ে আসছিল তখনই বুঝতে পারি মানুষটা ভালো কেউ নয়’। প্রথমেই ট্যারান্টের দিকে হাতে থাকা ক্রেডিট কার্ড মেশিনটা ছুড়ে মারেন তিনি। জবাবে ট্যারান্ট তার দিকে গুলি ছোড়া শুরু করে। আজিজ তখন অবস্থান নেন কয়েকটা গাড়ির আড়ালে। সে সময় মসজিদের ভেতর থেকে তার এক ছেলে বলে ওঠে, ‘বাবা প্লিজ, ভেতরে চলে এসো।’ এমন সময় একটি ফেলে রাখা বন্দুক চোখে পড়ে তার। গুলি শেষ হয়ে যাওয়ায় হামলাকারী সেটি ফেলে দিয়েছিলেন।

আজিজ সেটি কুড়িয়ে নিয়ে তেড়ে যান। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে এএফপিকে বলেন, ‘সে যখন আমার হাতে বন্দুকটি দেখল, আমি জানি না কি হলো, তার হাত থেকে বন্দুক পড়ে গেল। হাতে বন্দুক নিয়ে আমি তাকে ধাওয়া করলাম। এক পর্যায়ে বন্দুকটা আমি তার গাড়ির দিকে ছুঁড়ে মারি। এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। তখন আমি দেখলাম, সে যেন ভীত হয়ে পড়েছে।’

এরপর আজিজ তাকে ধাওয়া করেন। তবে গাড়ি নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয় ট্যারান্ট। তাকে নিয়ে আজিজের মন্তব্য: “অনেকে হামলাকারীকে ‘গানম্যান’ বলে। কিন্তু পুরুষ অর্থে ম্যান বলা যেতে পারে যাকে সে কখনও অন্য কাউকে আঘাত করে না। সে ‘পুরুষ’ নয়, কাপুরুষ।”

উল্লেখ্য শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের দুইটি মসজিদে হামলা চালায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ট্যারান্ট।। ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদে হামলার পর হামলাকারী বেছে নিয়েছিল লিনউড মসজিদকে। এ পর্যন্ত নিহত ৫০ জনের মধ্যে দ্বিতীয় হামলায় প্রাণ হারায় ৭ জন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নূর মসজিদের চেয়ে লিনউড মসজিদের হামলায় প্রাণহানি কম হওয়ার একমাত্র কারন হিসেবে দেখা হচ্ছে আব্দুল আজিজের সাহসী ভূমিকা।

ছোটবেলায় আফগানিস্তান থেকে ছেলেবেলায় আব্দুল আজিজ শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। সিডনিতে প্রায় তিন দশক বসবাস করার পর কয়েক বছর আগে নিউ জিল্যান্ডে বাস করা শুরু করেন। তখন থেকেই ক্রাইস্টচার্চেও বাসিন্দা।

নাবা/রাত্রি/