জাতীয় গ্রন্থমেলায় আশিক বিন রহিম-এর প্রথম কবিতার বই পদ্মপ্রয়াণ

চাঁদপুর: অমর একুশে জাতীয় গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হলো চাঁদপুর তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল কবি আশিক বিন রহিম -এর প্রথম কবিতার বই পদ্মপ্রয়াণ। এতে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন সময়ে লেখা তার ৫২টি কবিতা। বইটি প্রকাশ করেছে জেব্রাক্রসিং প্রকাশনি। প্রচ্ছদশিল্পী বিধান সহা। মূল্য ধরা হয়েছে ১৬০ টাকা। আশিক বিন রহিম প্রায় দেড়যুগ ধরে লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ছোটকাগজে নিয়মিত লিখছেন। কবিতা লেখার পাশাপাশি তিনি গল্প, ছড়া, ফিচার, প্রবন্ধ ও ভ্রমণ কাহিনী লিখে থাকেন। সম্পাদনা করছেন কবিতার কাগজ তরী।

প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি প্রকাশে তিনি বলেন, রোজকার সূর্য ভেঙ্গে এই যে হেঁটে চলছি অবিরাম। এই যে রোদ কিনছি, ফুল-পাখি, অরণ্যের সাথে বলছি কথা। এই যে জোছনা-ধোয়া কিংবা আমাবস্যার আঁধার মাখছি গায়ে। সমাজ-সংসারের পথে পথে ছিড়ে ফেলছি একটা একটা করে অয়ুর পালক এর নাম জীবন। এই যাপনে-উদযাপনে জীনের নির্যাস ঢেলে শব্দ কুড়াই আমি। নিজেকে ভাবি- শব্দের চাষি এক। আর একজন শব্দ চাষি তার সমস্ত চাওয়া-পাওয়া, পূর্ণতা-অপ্রাপ্তি, অভিমান-অনুভূতি কবিতায় এঁকে দিবে এই তো প্রকৃতির নিয়ম।

মূলত দুই হাজার তিন সন থেকেই কবিতার সাথে যাপন আমার। সেই থেকে কবিতা আমার কাছে মা-মাতৃভূমির মতই পবিত্র, বোনের মতো না ছিঁড়তে পাড়া সম্পর্ক, প্রেয়সীর মতো নেশাময় আর সন্তানের মতো হৃদয় দিয়ে অনুভব করা অদৃশ্য মায়া-টান। কবিতা আমার কাছে সর্বোচ্চ আরাধনার উপলক্ষ্য। তার সাথে দীর্ঘ যাপনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু সৃষ্টিকে মলাটবন্ধি করে একটি কাব্যসন্তান জন্ম দেয়ার প্রয়াস- খুব বেশী দোষের নয় বোধ করি। পদ্মপ্রয়াণ আমার প্রথম কবিতার বই। যা এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা (২০১৯)’তে প্রকাশিত হয়েছে। নিজের প্রথম বই হাতে পাওয়া, এ যেনো প্রথম সন্তানের মুখ দেখার মতই অন্যরকম রোমান্স। এই অনুভূতি পৃথিবীর কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলে, মনে করি।

তিনি বলেন, খুব সাধারণ একজন মানুষ আমি। রোজকার সূর্য ভেঙ্গে হেঁটে চলি, হাঁটতে থাকি। অনেক দূর যেতে হবে এমন কোনে তাড়া নেই। ঠিক ততটুকুন যেতে চাই, যতটা যেতে পারবো, যতটুকুন যাবার সামর্থ্য আমার আছে। আমার প্রথম প্রয়াস ’পদ্মপ্রয়ান’ -এর ভাল-মন্দ বিচারভার পাঠকের হাতেই রেখে দিলাম। ‘পদ্মপ্রয়ান’ -এর একটি কবিতাও যদি পাঠকের হৃদয়কে স্পর্শ করে, তবেই আমার এই প্রয়াস সার্থক হবে। ‘পদ্মপ্রয়ান’ কাব্যটি প্রকাশে অনেকের ভালোবাসা আমাকে ঋণি করেছে। তাঁদের প্রতি আমৃত্যু চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

প্রসঙ্গত: আশিক বিন রহিম সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন, সাহিত্য একাডেমী চাঁদপুর পুরস্কার, চতুরঙ্গ ইলিশ উৎসব পুরস্কার, ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম পুরস্কার, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পুরস্কার, নতুন কুঁড়ি চাঁদপুর লেখক সম্মাননা, চাঁদপুর কণ্ঠ লেখক সম্মাননা, পাঠক সংবাদ সম্মাননা, মোহনবাঁশী ছড়া উৎসব পুরস্কার, (লিটলম্যাগ সম্পাদনায়) ছায়াবানি মিডিয়া কমিউনেকেশন সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কার।
নাবা/এমএমএ/