আত্মসমর্পণ করছেন ইয়াবা ডন সাইফুল করিম

নিউজ ডেস্ক: দেশের ইয়াবা ব্যবসার ডন হিসেবে পরিচিত টেকনাফের হাজী সাইফুল করিম আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন। দেশব্যাপী ইয়াবা ছড়িয়ে দেয়া হাজী সাইফুল করিমের আত্মসমর্পণের ব্যাপারে এতোদিন ধোয়াশা থাকলেও পুলিশের হাতে তার আত্মসমর্পণ অনেকটাই নিশ্চিত।

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের হাতে এই ইয়াবা ডন আত্মসমর্পণ করছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে সাইফুল করিমের সিন্ডিকেটের অন্যতম দুই সদস্য তার শ্যালক জিয়াউর রহমান ও আব্দুর রহমানও আত্মসমর্পণের জন্য পুলিশের হেফাজতে চলে এসেছেন।

দেশের সর্বত্র মরণ নেশা ইয়াবা ছড়িয়ে দেয়ার নেপথ্যে রয়েছেন দেশের ‘নাম্বার ওয়ান ইয়াবা ব্যবসায়ী’ হাজী সাইফুল করিম ও তার পরিবারের ১০ সদস্যের ভয়াবহ সিন্ডিকেট।

এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতি করা সাইফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রামে অবস্থান করে সারা দেশের ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ করছেন। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় হাজী সাইফুল ও তার পরিবার বহাল তবিয়তে থেকে ইয়াবা ব্যাবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার পরোক্ষ সহযোগিতা পেয়ে সাইফুল করিম ও তার পরিবার এ কাজ করে আসছিলো বলে অভিযোগ আছে।

সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে করা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সর্বশেষ তালিকায় ‘এক নাম্বার ইয়াবা ব্যবসায়ী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে টেকনাফের শীলবনিয়া পাড়ার এই হাজী সাইফুল করিমকে। হাজী সাইফুল করিম সারাদেশে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে ‘এসকে’নামেই পরিচিত।

তালিকায় দেখা গেছে, শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল করিম এবং তার ভাই রেজাউল করিম, রফিকুর করিম, মাহাবুবুল করিম ও আরশাদুল করিম সারাদেশে সবচেয়ে বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

সাইফুল করিমের দুই শ্যালক- টেকনাফ বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমান ও শ্রমিক দলের নেতা আবদুর রহমানও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইয়াবার গডফাদারের তালিকায় এই দুইজনের নামও রয়েছে।
সাইফুল করিমের ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলামও এই ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।

সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল নিজেকে টেকনাফ বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক বলে পরিচয় দেন। তার বৈধ ব্যবসার সাইনবোর্ডের নাম এসকে ইন্টারন্যাশনাল। কিন্তু গত ৯-১০ বছর ধরে সাইফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা এখন অবৈধভাবে হাজার কোটি টাকার মালিক।

সাইফুল করিমের ইয়াবা সিন্ডিকেটের মূলশক্তি হিসেবে রয়েছে তার মামা, মিয়ানমারে মংডুর আলী থাইং কিউ এলাকার মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় দেখা গেছে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাঠান সাইফুলের মামা ইব্রাহিম ও তার অন্য সহযোগীরা। সাইফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা মিয়ানমার থেকে এই ইয়াবা এনে সারা দেশে পাচার করেন।

অভিযোগ উঠেছে, এই কালো টাকা দিয়ে সাইফুল তার ভীত অনেক শক্তিশালী করেছেন। হাত করেছেন অনেক বড় বড় রাজনীতিবিদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জানা গেছে, সাইফুল করিম বিয়ে করেছেন টেকনাফের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিএনপির রাজনীতিবিদ মো. আবদুল্লাহর ছোট বোনকে। সাইফুলের শ্যালক জিয়াউর রহমান উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। অপর শ্যালক আবদুর রহমান উপজেলা শ্রমিক দলের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সর্বশেষ যে তালিকা করা হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, সাইফুল করিম স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় তিনি অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি চট্টগ্রামের ভিআইপি টাওয়ারে অবস্থান করেন। চট্টগ্রামের টেরিবাজারে “বিনয় ফ্যাশন”নামের একটি কাপড়ের দোকানের আড়ালে তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকা ও চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচার করেন।

কক্সবাজারে পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন জানিয়েছেন, তালিকাভূক্ত অধিকাংশ অধিকাংশ ইয়াবা ব্যাবসায়ী শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণের ইচ্ছে প্রকাশ করেছে। আত্মসমর্পণের দিন তালিকাভুক্ত বড় বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

নাবা/এমএমএ/